অবশেষে থ্রিজি লাইসেন্স উন্মুক্ত নিলামে: জিএসএম-সিডিএমের ফি হবে সমান

টিউন বিভাগ খবর
প্রকাশিত

দেশের বেসরকারি চারটি মোবাইল ফোন অপারেটর-গ্রামীণ, রবি, বাংলালিংক ও সিটিসেলের লাইসেন্স নবায়ন ফি অবশেষে চূড়ান্ত করা হলো। এতে জিএসএসম ও সিডিএম দুই ধরনের প্রযুক্তিরই তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) ফি সমান রেখে অন্যান্য ফি নির্ধারণ করা হয়। তবে নবায়নের নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
প্রস্তাব থাকলেও গ্রাহকসংখ্যা-ভিত্তিক (ইউটিলাইজেশন ফ্যাক্টর) বাড়তি ফি আদায়ের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত থাকছে না। এর বদলে থাকছে ‘মার্কেট কম্পিটিশিন ফ্যাক্টর’। গ্রাহকসংখ্যা-ভিত্তিক বিষয় নিয়ে বিশেষ করে গ্রামীণফোনের জোর আপত্তি ছিল। চলতি বছরের ১০ নভেম্বর গ্রামীণ, রবি, বাংলালিংক ও সিটিসেলের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এয়ারটেল ও টেলিটকের লাইসেন্সের মেয়াদ আরো পরে শেষ হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিকমসচিব সুনীল কান্তি বোস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অপারেটরদের সঙ্গে সরকারের রাজস্ব ভাগাভাগি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। স্পেকট্রামের মেগাহার্জ-প্রতি ফি জিএসএম ও সিডিএম-সব ব্র্যান্ডের জন্য একই অর্থাৎ ১৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ইউটিলাইজেশন ফি নামে কোনো ফি না থাকলেও যাদের গ্রাহক বেশি তাদের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায়ের বিকল্প পথও নীতিমালায় রাখা হচ্ছে।
বৈঠকে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন (থ্রিজি) সেবা দেওয়ার জন্য লাইসেন্স আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে টেলিটক এ সেবাটি দেবে। তবে চূড়ান্তভাবে সেবাটি দেওয়ার জন্য উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে কয়েকটি অপারেটরকে লাইসেন্স দেওয়া হবে। নিলামে দেশের বর্তমান মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো ছাড়াও বাইরে থেকেও যে কেউ লাইসেন্সের আবেদন করতে পারবে।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহম্মেদ রাজু, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, মশিউর রহমান এবং বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহম্মেদ রাজু জানান, সব ধরনের ফি-ই চূড়ান্ত হয়েছে। এখন ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে। এর পরই লাইসেন্স নবায়নের আবেদন নেওয়া শুরু হবে।
বেশ কয়েক মাস ধরে বিটিআরসি, টেলিযোগাযোগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ফাইল চালাচালি এবং বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী এটি চূড়ান্ত করেন। সংশ্লিষ্ট অনেকের ধারণা, গতকাল স্প্রেকট্রামের জন্য যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে সংকটে পড়বে দেশের একমাত্র সিডিএমএ অপারেটর সিটিসেল। এর আগে বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় বিশেষ বিবেচনায় সিডিএমএর স্প্রেকট্রাম এক্যুইজিশন ফি জিএসএম ব্র্যান্ডের চেয়ে কম রাখার প্রস্তাব করে। অর্থ মন্ত্রণালয় এটি প্রতি মেগাহার্জের জন্য ৮০ কোটি টাকার প্রস্তাব রাখে।
তবে ডাক ও টেলিকমসচিব সুনীল কান্তি বোস কালের কণ্ঠকে বলেন, সিটিসেলের গ্রাহক কম, তাই অন্য অপারেটরদের তুলনায় মার্কেট কম্পিটিশন ফ্যাক্টর অনুসারে তাদেরকে কম টাকা দিতে হবে। তিনি জানান, সোস্যাল অবলিগেশন ফান্ডের (সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল) জন্য বিটিআরসি অপারেটরদের কাছে তাদের রাজস্ব আয় থেকে ১ দশমিক ৫ শতাংশ আদায়ের প্রস্তাব করেছিল। এটি কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় অবশ্য এটি দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছিল।
লাইসেন্স নবায়নের জন্য যেসব ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা চার কিস্তিতে শোধ করতে হবে বলে সচিব জানান। এর মধ্যে মোট টাকার ৪৯ শতাংশ শোধ করতে হবে চলতি বছরের নভেম্বরে। বাকি ৫১ শতাংশ তিন কিস্তিতে আগামী বছর থেকে শোধ করতে হবে।
দেশে বর্তমানে পাঁচটি জিএসএম ও একটি সিডিএমএ অপারেটর মোবাইল ফোন সেবা দিচ্ছে। বিটিআরসির হিসাবে এখন সাড়ে সাত কোটির বেশি লোক মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। এক কোটির বেশি গ্রাহক ইন্টারনেট সেবা নিচ্ছে। এর ৯৪ শতাংশই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বিটিআরসি গত ২০ জানুয়ারি এ বিষয়ে খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করে গণমত আহ্বান করে। প্রস্তাবিত ওই নীতিমালায় ১৫ বছরের জন্য লাইসেন্স নবায়ন এবং প্রতিবছর পর এটি অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়। প্রস্তাবিত এ নীতিমালায় স্পেকট্রামের জন্য আবেদন ফি ৫০ হাজার টাকা, স্পেকট্রাম একুইজিশন ফি প্রতি মেগাহার্জে জিএসএম ১৮০০ ব্যান্ডের জন্য ১৫০ কোটি টাকা, ৯০০ ব্যান্ডের জন্য ৩০০ কোটি টাকা এবং সিডিএমএর প্রতি মেগাহার্জের জন্য ১৫০ কোটি টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়। এর সঙ্গে যোগ করা হয় গ্রাহকসংখ্যা বা ইউটিলাইজেশন ফ্যাক্টর অনুযায়ী বাড়তি ফি।

মূল আর্টিকেল

সূত্রঃ সুখবর২৪.কম

Level 0

আমি Ripendil। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 9 বছর 10 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 42 টি টিউন ও 140 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

asai asi kaba chalo hai 3g

Level 0

ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্স ছাড়ার পর প্রায় এক বছর লেগেছে জনগনের কাছে পৌছাতে। এবারেও এমন সময় লাগবে ধরে নিতে পারেন।

তাহলে কী মোটামোটিভাবে এই বছরের শেষের দিকে 3G সেবা GP,ROBI,AIRTEL,CITYCEL গুলোতে পাওয়া যাবে? নাকী টেলিটক পুরা ১বছর চালানোর পর বেসরকারী ফোনগুলোকে হস্তান্তর করবে?

    Level 0

    এই বছরের শেষের দিকে হয়ত পাওয়া যাবে না, তবে সামনে বছর পাব বলেই মনে হচ্ছে।

    Mobile Company Guloke Mone Hoy 2G Projukti Deoa Hobe. 3G er Jonno Aladavabe Nilam Hobe.

কবে থেকে তো শোনা যাচ্ছে , যেদিন ৩জি ব্যাবহার করতে পারমু সেদিন বলব আসছে। আর আপনি 3 মোবাইল এর যে লোগো দিয়েছেন সেটি আমার জানা মতে একটি অস্ট্রেলিয়ান মোবাইল সেবা দাতা কোম্পানি।

Level 0

sm tanvir, আপনার কথাটি সত্যি, ৩জি এর উইনিভার্সাল কোন লোগো আছে কিনা আমার জানা নেই, বিভিন্ন মোবাইল কম্পানির বিভিন্ন লোগো আছে। বাংলাদেশের কোন লোগো এখনো তৈরী হয়নি কারন কেউ এখনো লাইসেন্স পায় নি। গত মঙ্গলবার এই লাইসেন্স প্রদানের জন্য উন্মুক্ত নিলামের ঘোষনা দেয়া হয়। এর আগে হয়ত অনেক কিছুই শুনেছেন, তবে উন্মুক্ত নিলামের ঘোষনার কথা শোনেন নি নিশ্চয়ই।

কী আর বলবো ভাই |থাকি যশোরে |গত বছর ৫ সেপ্টেম্বর কম্পিউটার কিনতে গিয়ে শুনলাম ওয়াইম্যাক্স যশোরে আসছে |
আমার কম্পিউটারের ১ বছরের জন্মদিন চলে আসলো এখনো ওয়াইমাক্স আসে নাই |
😐
আজ এক বন্ধুর কাছে শুনলাম তার খালার বাসার ছাদে নেটওয়ার্ক বসাচ্ছে|
🙂

TNX
comment a vi bangla kivaby likbo

টিউন করেছেন : Ripendil
দেশের বেসরকারি চারটি মোবাইল ফোন অপারেটর-গ্রামীণ, রবি, বাংলালিংক ও সিটিসেলের লাইসেন্স নবায়ন ফি অবশেষে চূড়ান্ত করা হলো। এতে জিএসএসম ও সিডিএম দুই ধরনের প্রযুক্তিরই তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) ফি সমান রেখে অন্যান্য ফি নির্ধারণ করা হয়।

একটু দেখুন ভাইয়া , জি এস এম ব্যান্ড ৯০০/১৮০০ MHz , সি ডি এম এ ব্যান্ড ৮০০ MHz , Bangladesh.

(প্রতি মেগাহার্ৎজ স্পেকট্রাম ফি (১৮০০ ও ৯০০) উভয় ব্যান্ডের জন্য একই অর্থাৎ ১৫০ কোটি টাকা করে এবং ৮০০ মেগাহর্ৎজের জন্য ৮০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে) অর্থাৎ সি ডি এম এ প্রায় অর্ধেক লাইসেন্স ফী দিবে , অতএব সিটিসেল এবার ভাল জুম দিবে কি বলেন ?
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=15&dd=2011-08-10&ni=67387
ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহম্মেদ রাজু জনকণ্ঠকে বলেন, সব ধরনের ফিই চূড়ানত্ম হয়েছে। এখন ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নীতিমালাটি চূড়ানত্ম করা হবে। এরপরই লাইসেন্স নবায়নের আবেদন নেয়া শুরম্ন হবে। স্পেকট্রামের দাম নিয়ে এত দিন ধরে অপারেটররা আপত্তি জানিয়ে আসছিল। আজ থেকে অপারেটরদের আর কোন কথা থাকবে না। স্পেকট্রাম বরাদ্দে কোন পার্থক্য রাখা হয়নি। প্রতি মেগাহার্ৎজ স্পেকট্রাম ফি (১৮০০ ও ৯০০) উভয় ব্যান্ডের জন্য একই অর্থাৎ ১৫০ কোটি টাকা করে এবং ৮০০ মেগাহর্ৎজের জন্য ৮০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোশ্যাল অবলিগেশন ফি বিটিআরসি প্রসত্মাব করেছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এটি কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। টেলিকম মন্ত্রণালয় অবশ্য এটি দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রসত্মাব করেছিল। লাইসেন্স নবায়নের জন্য যে সব ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা চার কিসত্মিতে শোধ করতে হবে। এর মধ্যে মোট টাকার ৪৯ শতাংশ শোধ করতে হবে চলতি বছরের নবেম্বরে। বাকি ৫১ শতাংশ তিন কিসত্মিতে আগামী বছর থেকে শোধ করতে হবে।

ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্স ছাড়ার পর প্রায় এক বছর লেগেছে কারন তাদের টাওয়ার স্থাপন করে নেটওয়ার্ক দিতে হয়েছে। কিন্তু 3জি পেতে এতো টাইম লাগবে না। কারন মোবাইল অপারেটর দের টাওয়ার এবং নেটওয়ার্ক স্থাপন করাই আছে। 3জি এর জন্য গ্রামিন ফোন তাদের টাউয়ারকে অলরেডি 3জিতে রুপান্ন্তর করেছে। সুধু লাইছেন্স এর অপেক্ষ্।